October 14, 2026, 4:25 pm

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

বগুড়ায় অনিয়ন্ত্রিত এসিড ব্যবহার ও সোনা গলানোর বিষাক্ত ধোঁয়ায় হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া শহরের গালাপট্টি ও শহরতলীর ধরমপুরে দিনরাত অনিয়ন্ত্রিতভাবে পোড়ানো হচ্ছে নাইট্রিক ও সালফিউরিক এসিড। এর ফলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকলেও দেখার যেনো কেউ নেই।

শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথার অদূরে অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা গালাপট্টি। এই এলাকায় এসিডের ঝাঁঝালো গন্ধে জনসাধারণের সড়কে চলাচল করাই দায় হয়ে পড়েছে। এছাড়া গালাপট্টি সড়কে মোকারম হোসেন খান মার্কেটে নিচতলা থেকে ৭ তলা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি দোকানে সোনা গলানো হয়ে থাকে। গালাপট্টি মোড়সহ ফতেহ আলী মোড়ের আগ পর্যন্ত দোকানে সোনা গলানোর কাজে এসিড ব্যবহার করা হয়।

শুধু শহরেই নয়, শহরতলির ধরমপুরসহ বিভিন্ন স্থানে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। গালাপট্টিতে সন্ধ্যা নাগাদ বাতাসে এই এসিডের মাত্রা ভয়াবহ আকারে পৌছে। তখন চলাচলরত মানুষ বিশেষত নারী ও শিশুদের অনেকে নাক-মুখ ঢেকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

গালাপট্টিতে অর্ধ শতাধিক জুয়েলারি দোকান ছাড়াও শহরের বিভিন্নস্থানে গড়ে ওঠা স্বর্ণকারের দোকানে অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে নাইট্রিক ও সালফিউরিক এসিড। এসিড পোড়ানোর নীতিমালা থাকলেও তা কেউ মানছেন না।
গালাপট্টি ঘুরে দেখা যায়, এসিড পোড়ানোর জন্য আলাদা কক্ষ ও চিমনি ব্যবহার করার বিধান থাকলেও ৯০ ভাগ দোকানেই সেটি নেই।

এসব স্বর্ণের দোকানের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেই। ওই এলাকায় অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে সকাল থেকে রাত অব্দি কয়েক শ’ কর্মচারী ও দোকান মালিক অবস্থান করেন। তারাও এ দূষণের শিকার। এসিড পোড়ানোর কারণে তাদের শ্বাস কষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোনার গহনা তৈরির জন্য এসিড ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। সোনা থেকে খাদ বের করার জন্য নাইট্রিক এসিড দিয়ে পোড়াতে হয়। আর গহনার সৌন্দর্য বাড়াতে ব্যবহার করা হয় সালফিউরিক এসিড। ব্যবহারের সময় এসিড বাতাসে মিশে বিষাক্ত জ্বলীয়বাষ্পে রূপ নেয় এবং তা শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

এতে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগ দেখা দেয়। এজন্য আইন অনুযায়ী স্বর্ণের দোকান গুলোতে ২০ ফুট উচু চিমনি ও সোনার অলঙ্কার তৈরির নিজস্ব কারখানা থাকতে হবে। কিন্তু সরকারি নিয়মনীতির প্রতি তোয়াক্কা নেই স্বর্ণকারের দোকানগুলোতে।

ওই এলাকার কয়েকজন আবাসিক বাসিন্দা জানান, এসিডের ধোঁয়া পথচারী, বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন অফিসের লোকজনের স্বাস্থ্যহানী এবং পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বারবার বলা সত্ত্বেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

চিকিৎসকরা জানান, এর প্রভাবে মানুষের শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ছাড়াও হার্টের সমস্যা হতে পারে। নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডযুক্ত ভারী গ্যাস সালফিউরিক এসিড বাতাসের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানী, হৃদরোগসহ নানা উপসর্গের জন্ম দেয়।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মো: মতলেবুর রহমান রাতুল বলেন, বগুড়া শহরে তিনশ’ স্বর্ণের দোকান রয়েছে। এরমধ্যে শো-রুমগুলোতে এসিডের ব্যবহার করা হয় না। কারখানাগুলোতে এসিডের ব্যাবহার করা হয়। শহরে এ ধরনের ২-৩টি কারখানা রয়েছে তার মধ্যে একাধিক কারখানার এসিড ব্যবহারের লাইসেন্স আছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর বগুড়ার সহকারী পরিচালক মাহাথীর মোহম্মদ বলেন, বিষয়টি তেমনভাবে জানা নেই। কেউ অভিযোগও করেনি। তবে যেহেতু আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়মের আওতায় আনার জন্য সতর্ক করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD